প্রতিষ্ঠানটির পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৬ সালে এআই চিপ বিক্রয়লব্ধ আয় ৬০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে। খবর এফটি।
হুয়াওয়ের হিসাব অনুযায়ী, চলতি বছর এরই মধ্যে বিপুল পরিমাণ ক্রয়াদেশ জমা পড়েছে। এর ভিত্তিতে ২০২৬ সালে চিপ খাত থেকে আয় ১ হাজার ২০০ কোটি (১২ বিলিয়ন) ডলারে পৌঁছবে বলে আশা করা হচ্ছে। উল্লেখ্য, ২০২৫ সালে খাতটির আয় ছিল ৭৫০ কোটি ডলার।
হুয়াওয়ের এ বিশাল প্রবৃদ্ধির প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে দেখা হচ্ছে কোম্পানির ‘অ্যাসেন্ড ৯৫০পিআর’ প্রসেসরকে। চলতি বছরের মার্চে উৎপাদন শুরুর পর বাজারে এর ব্যাপক চাহিদা তৈরি হয়। এছাড়া ২০২৬ সালের চতুর্থ প্রান্তিকে (অক্টোবর-ডিসেম্বর) হুয়াওয়ে ‘৯৫০ডিটি’ চিপের একটি উন্নত সংস্করণ বাজারে ছাড়ার পরিকল্পনা করছে।
বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, হুয়াওয়ের অগ্রগতির বিপরীতে মার্কিন চিপ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান এনভিডিয়া চীনে ব্যবসায়িক চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছে। যদিও ট্রাম্প প্রশাসন নির্দিষ্ট শর্তে চীনে জিপিইউ রফতানির অনুমতি দিয়েছিল, কিন্তু বাস্তবে চিত্রটি ভিন্ন।
মার্কিন বাণিজ্য সচিব হাওয়ার্ড লুটনিক জানান, এখন পর্যন্ত চীনে কোনো ‘এইচ২০০’ চিপ বিক্রি সম্ভব হয়নি। এর পেছনে চীন ও মার্কিন সরকারের বিভিন্ন নীতিগত জটিলতা কাজ করছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র সরকার রফতানি অনুমোদনের ক্ষেত্রে নতুন কিছু শর্ত জুড়ে দিয়েছে। এখন থেকে চিপ রফতানির আগে তৃতীয় পক্ষের ল্যাবরেটরিতে এর কারিগরি সক্ষমতা পরীক্ষা করতে হবে। এছাড়া নিজস্ব বাজারের চাহিদা পুরোপুরি মেটানোর পর অতিরিক্ত চিপ হাতে থাকলে তা অন্য দেশে রফতানি বা বিক্রির অনুমতি দেয়া হবে। অন্যদিকে চীন সরকারও স্থানীয় কোম্পানিগুলোকে মার্কিন চিপের ওপর নির্ভরতা কমানোর নির্দেশ দিয়েছে।
বাজারের এ অনিশ্চয়তার কারণে এনভিডিয়া এরই মধ্যে চীনের জন্য তৈরি এইচ২০০ জিপিইউ উৎপাদন বন্ধ করে দিয়েছে বলে জানা গেছে। কোম্পানিটি এখন অন্য উন্নত চিপ (ভেরা রুবিন) তৈরিতে কাজ করছে। ফলে চীনের অভ্যন্তরীণ এআই চিপ বাজারে হুয়াওয়ের জন্য আধিপত্য বিস্তারের বড় সুযোগ তৈরি হয়েছে।